দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে আল আমিন (৩০) নামে এক মিশুকচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে তার ছোট ভাই হাসান (২৬)। এ ঘটনায় ঘাতক হাসানসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজার এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আল আমিন ও হাসান মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের বোন তাসলিমা বেগমকে একই এলাকার নাইম দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভয়ে তারা গ্রামে চলে যান। কয়েকদিন আগে বিষয়টি মীমাংসা করে আবার শহরে ফিরে আসেন তারা।
স্বজনদের দাবি, এই বিরোধের জেরে ছোট ভাই হাসান ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার আগের রাতে তিনি আল আমিনকে হুমকি দেন। পরদিন সকালে বাজারে যাওয়ার পথে সাটিরপাড়া এলাকায় হাসান কাঁচি দিয়ে তাকে পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ‘পরিবারের ভেতরের বিরোধ এবং বাইরের চাপ—দুইয়ের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।’
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, নাইম তাকে দীর্ঘদিন ধরে ফোনে বিরক্ত করতেন এবং কথা না বললে ভাইদের হত্যার হুমকি দিতেন।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, আল আমিনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। নাইমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এমএস/